April 05, 2012

“..আমার কল্পনায় তুমি..”

“..আমার কল্পনায় তুমি..”

“..আমার কল্পনায় তুমি
এতবার এসেছ যে
তুমি তোমার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছ
কল্পনায় তোমাকে এতবার ছুঁয়েছি,
ধারণ করেছি যে,
তুমি তোমার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছ

আমি চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই
তোমার মেঘ, লতানো পাতা, প্রবাহিত অবয়ব
আমার বন্ধ চোখের পৃথিবী
জুড়ে তোমার আলো আর অসংখ্য তুমি
আমার বই, খাতা-কলম, আসবাবপত্র
নখ, ঠোঁট, আঙ্গুল-বুক সবকিছুতেই
শুধু তুমি লেগে আছো!

আমি চোখ বন্ধ করলেই বলে দিতে পারি
কতোটা বর্ষা তোমার চুল
কতোটা পুষ্প তোমার আঙুল
কতোটা গোলাপ তোমার ঠোঁট
কতোটা পদ্ম তোমার পা
কতোটা তুমিময় তোমার তুমি

আমার কল্পনায় ঐ চুল, আঙুল, ঠোঁট, পা
এতবার, আমি এতবার ছুঁয়েছি,
ধারণ করেছি যে –
যখন সত্যিকারের তুমি এসে দাঁড়াও সামনে
অপ্রস্তুত লাগে, অস্বস্তি লাগে;

এই তোমাকে আমি ছুঁয়েছি এতো কম!

এই তোমাকে আমি জেনেছি এতো কম!

বড় বেশি এলোমেলো আর অচেনা লাগে

বিশ্বাস করো –
এতবার,
আমার কল্পনায় তুমি
এতবার এসেছ যে –
তুমি তোমার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছ !..”

“..রং হীন তোমার জল..”

“..রং হীন তোমার জল..”

“..রং হীন তোমার জল
যখন কাঁপায় আমার হেলেঞ্চার শীর্ষাগ্র
তুমি তা কখনও দেখোনি তো !

থরথর তোমার উষ্ণ নিঃশ্বাসে
যখন পালায় আমার লাজুক ডাহুক
ছড়ানো কচুরিপানায় দ্বিধান্বিত পা ফেলে
তুমি তা কখনও শোনোনিতো !

স্পর্শ না করেও ভালবাসতে পারি
তোমার মেঘ, পাহাড়, ঝর্ণা
গহীন অরণ্য, নদী;

শূন্যতায়ও এতোটুকু হয় না বদল
আমার ক্যানভাসে শুভ্রতা
তোমার নীল, সবুজ আর
প্রবাহিত গোলাপি!

তোমার শুধু একটাই কথা -
‘ভালোবাসা বলতে কিছু নেই;
যদি তা না থাকে সারা জীবন ভরে,’
আমি বলি,
‘ভেবে দেখো
শুনছো যে গান তার
ক’টা লাইন আসে ফিরে
চাপা গুনগুনে?’..”

..‘এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়’..

..‘এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়’..

“..আমার এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়
আমি জানি, তুমি জানো –
বৃষ্টি হলেই আমি কবিতা লিখি তোমার জন্য
কিন্তু, শুধু এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়।

এই কবিতাটি শুধু তাদের জন্য
যারা বৃষ্টি ভালোবাসে
টুকরো কাগজের মতো যারা
নিজেদের উড়িয়ে দিতে চায়
বৃষ্টি শুরুর লাগামহীন বাতাসে
যারা বৃষ্টির ফোঁটায় খোঁজে প্রিয় মুখ;
জল নিয়ে গালে – যারা হাসে!

অবারিত আকাশ মুঠোতে ধরবে বলে
যারা ছুটে যায় খোলা প্রান্তরে
বারান্দার কার্নিশে অপেক্ষমাণ কাকের দিকে
‘মাটিতে আকাশের স্বাধীনতা’ যারা দিতে পারে ছুঁড়ে!

এই কবিতাটি তাদের জন্য
যাদের দু’হাত গত বৃষ্টিতে
ধরে রাখা অন্য দু’হাতের স্মৃতিতে কাঁপে

এই কবিতাটি তাদের জন্য
যারা ভেজা জানালার এপাশে বসে
কচি বাঁশপাতার মতো
বড়ো বেশি এলোমেলো চোখে কাঁদে

এই কবিতাটি শুধু তাদের জন্য
যারা ব্যাথার কাজল মেখে
দু’হাতে মুখ লুকিয়ে,
বৃষ্টিকে ভালোবেসে – রং হীন জলে
ঝরে যেতে ভালোবাসে!..’’

..‘এলোমেলো-১-৪’..

..‘এলোমেলো-১’..

“..তোর বুকেই ঘুমাব শুধু
আর কোনও কিছু চাইবো না;
সত্যি বলছি, আমাদের বিছানায়
একের অধিক বালিশ রাখবো না!..’’

..‘এলোমেলো-২’..

“..‘আজ শাড়ি পড়েছি’ –
মুঠোফোনে বললি;
কায়া ছেড়ে ছোটে ছায়া
বলি, ‘তুই কোথায় চললি!?’..’’

..‘এলোমেলো-৩’..

“..দশ-বারোটা কবিতার বই কিনেছি
একটিও পড়তে পারছি না;
তোর দুচোখের মত কবিতা
কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না!..’’

..‘এলোমেলো-৪’..

“..জানি এ Cigarette ভালো না মোটেও
পোড়াচ্ছে আমায় ধীরে ধীরে’;
তবুও বলবো, ভালো,
অন্তত ঐ অভিমানিনীর থেকে
পোড়াচ্ছে ঠিকই,
তবু আসছে তো ঠোঁটে ফিরে ফিরে!..’’

..'এলোমেলো-১-৫'..

..'এলোমেলো-১'..

“..ধরতে বলিস তোর দুটি হাত
শক্ত করে ওভাবে;
হাত যে আমার প্রচণ্ড ঘামে
বল, রাখব ধরে কিভাবে?..’’

..'এলোমেলো-২'..

“..ঘর ভেঙ্গে তুই আসতে চাস
ছুটে আমার কাছে;
ভাঙ্গবি না তুই আমার ঘর
এই নিশ্চয়তা কি আছে?..’’

..'এলোমেলো-৩'..

“..অনেক হল, আর কাছে
আসার চেষ্টা করিস না;
ঘুম হারিয়ে ঐ দুচোখে
জল বৃক্ষের বীজ বুনিস না!..’’

..'এলোমেলো-৪'..

“..খসখসে কাগজে কখনও
নাম লিখিনি তোর;
চোখের পাতায় নেই
তোর ঠোঁটের স্পর্শ?
- চাইনা এমন ভোর!..’’

..'এলোমেলো-৫'..

“..যে নামে আমার ইচ্ছে
সে নামেই তোকে ডাকবো;
স্বামী নই, প্রেমিক আমি
যখন ইচ্ছে – ভালবাসবো!..’’

..‘রাত্রি’..

..‘রাত্রি’..

“..দিবাবসানে আসো তুমি
নক্ষত্রের চাঁদর গায়ে
নিস্তব্ধতার জলধারায় ভিজিয়ে পায়ের পাতা
পলকহীন চোখ আর কপালে দিয়ে চাঁদের টিপ;
দিবাবসানে আসো তুমি
আঁধারের মৌতান ছড়িয়ে।

কালবোশেখি মেঘের সর্পিল বেণী
ফিরে ফিরে দুলতে থাকে তোমার তন্বী কোমরে
তোমার পথচলায় ছন্দালোক জোগাতে –
জোয়ার উঠে সায়র জলে,
জোনাকিরা, প্রদীপ তুলে ধরে।

রাত্রি, তুমি আসো ধীরে
গুনগুনিয়ে বাদলধারার মতো –

রাত্রি, তুমি পাশে এসে বস চুপে
অবিচ্ছেদ্য আমার ক্ষীণকায় ছায়ার মতো –

রাত্রি, তুমি চোখ মেলে তাকাও আমার পানে
বহুদূর থেকে ভেসে আসা ডাহুকীর গানের মতো –

রাত্রি, তুমি মেলে ধরো তোমাকে আমার কাছে –
প্রথম বর্ষায় স্নাত, প্রস্ফুটিত কদমফুলের মতো!..’’

..‘এলোমেলো-১-৫’..

..‘এলোমেলো-১’..

“..ঘাসের তুলি, শিশিরের রং
পায়ের পাতায় তোর আঁকে যেমন আল্পনা;
আকাঙ্ক্ষিত – তোকে ঘিরে আমার চাওয়া
দুর্বোধ্য – তোকে নিয়ে আমার কল্পনা!..’’

..‘এলোমেলো-২’..

“..তোমার কাছেই আসবো ছুটে
যুদ্ধ-ফেরত সৈনিকের মতন;
তোমার বুকেই উঠবো জেগে –
আদ্র স্পর্শে, ঘুমন্ত দহন!..’’

..‘এলোমেলো-৩’..

“..আমিও হতাম ‘হিমু’
আর হাঁটতাম সারারাত -
রাস্তায়;
ক্লান্তিতে,
যদি ঘুমাতে পারতাম –
তোমার কোলের বারান্দায়!..’’

..‘এলোমেলো-৪’..

“..চোখটা মেলে আকাশ পানে
তাকাও আরেকবার;
‘ক্ষুদ্র’ তোমার মাঝেই আছে
‘সবটুকু’ আমার!..’’

..‘এলোমেলো-৫’..

“..না পাই যদি সূর্যাস্তে
তোমার ঠোঁটের নির্যাস;
বছর জুড়ে চলবে আমার
আমৃত্যু উপবাস!..’’