April 05, 2012
..'আমি পারবোনা'..
..'আমি পারবোনা'..
“..আমি পারবোনা তোমার দিকে চেয়ে থাকতে
ঐ হলুদ সূর্যমুখীর মতো
পারবোনা তোমার প্রখরতায় স্নান করতে
ঐ শুকতলী ক্ষয়ে ফেলা পথিকের মতো;
তুমি তো সূর্য নও, তুমি তো চাঁদ আমার
আমারই চঞ্চল চুম্বনে যে
ঐ কলঙ্ক মাখা মুখ তোমার!
আমি পারবোনা ফিরে ফিরে আসতে
পুরনো ভালো লাগা সুরের মতো
তোমার একাকী ক্ষণে
আমি পারবোনা ঐ চুলের ঘোমটা সরিয়ে
দোলাতে তোমার কানের পদ্মফুল
ঘুম ভাঙ্গা রাত গহীনে!
আমার যে আকাশটা
জুড়ে ছিল নীলাভ খণ্ড খণ্ড মেঘে
সে তো কবেই শ্রাবণের বর্ষণ হয়ে ঝরে গেছে
তোমায় ভেবে পার করা
প্রথম রাত্রিগুলোতে
আর যে নেই এক খণ্ড মেঘ-ও অবশেষ –
কি দিয়ে তোমায় আবার করবো বরণ?
কি ঝরাবো আহূত শুভক্ষণের পুষ্পাঞ্জলিতে?
প্রাপ্তি কি কভু হয় পূর্ণ
রঙ-হীন জল ছাড়া?
আমার আকাশ আজ মেঘহীন
আর পেয়ে হারানোয় ভরা!
স্বপ্ন দেখতে এখন আমি আর পারিনা
পুরনো দিনগুলোর মতো
পারিনা পালক হয়ে লুকাতে ঝাউবনে
ঝরাপাতা হয়ে ভাসতে নদীজলে, অথবা
তোমার স্বপ্নগুলো ঠোঁটে করে উড়ে যেতে
ছোট্ট মাছরাঙাটির মতো!
তোমার আকাশে, আজ তুমি একাই থাকো জেগে
ছড়িয়ে রেখে আমার দেয়া
কল্পনার আঁধার কালো চাদর;
আর শত শত দুঃখ তারা
ঐ ধূপ-বসনে মেখে
চাইলেও আমি পারবোনা ফিরে আসতে
সন্ধ্যাবেলার নীড়ে ছোটা পাখি হয়ে
তোমার আঁধার শাড়ির আঁচলে জ্বলা দুঃখ-তারাগুলো
জানি একদিন হারাবে উজ্জ্বলতা, ম্লান হয়ে
আমার দু’হাতে আজ আর কিছুই নেই
শুধু প্রায় মুছে যাওয়া কিছু দাগ ছাড়া
আজ আর পারিনা বলতে গর্ব ভরে –
‘এই দু’হাতে হাত রাখো, সব পাবে’
ক্লান্তিতে, আমি যে আজ দিশেহারা।
একাকী হেঁটেছি অনেকটা পথ
রাখিনি সঙ্গী করে কাউকে, কখনও
আমার আজন্ম পরিচিত ছায়া ছাড়া
শুধু জেনে রেখো,
এই দীর্ঘ পথ আমারই সৃষ্টি
এই ক্লান্তি- জেনে রেখো, আমারই সৃষ্টি করা।
চাইলেও আজ তোমার একটি হাসিকে
পারবোনা কিনে নিতে একটি গান দিয়ে
সে যে ছিলাম গত জনমের আমি
তোমার গুণগুণে, তুলে রাখা বীণা হয়ে।
পারবোনা বলতে তোমায়
ঐ হাত দুটো মেলে ধরতে, যে আঙ্গুলগুলোতে ছুটে যেতো,
ঘুরে বেড়াতো আমার আঙুলগুলো
পিয়ানো ভেবে; তোমার নতুন গাওয়া সুরে সুর মেলাতে।
পারবোনা বলতে ঐ দুচোখ ছুঁয়ে –
‘আমার বসবাস এ তারা দুটোর কালোতে’
পারবোনা আর ডাকতে তাদের
‘কৃষ্ণগহ্বর’ নামে
পারবোনা আর পাশাপাশি হাঁটতে
যখন রাজপথে কুয়াশা এসে থামে।
আজ আর আমায় ডেকোনা
আজ ভালবাসা নেই আর আমাতে
যখন আবার দুচোখ ভরে
স্বপ্ন দেখতে পারবো,
স্বপ্ন দেখাতে পারবো,
ছুটে যেতে পারবো তোমায় নিয়ে
বুনো ঘোড়া হয়ে সবুজ অরণ্যে –
নিজেই আমি আসবো ছুটে,
জড়াতে তোমায় শুভ্র-শাদা ঢেলে দিয়ে
ঐ আঁধার-কালো, দুঃখ-তারা জ্বলা জামাতে!..”
“..আমার কল্পনায় তুমি..”
“..আমার কল্পনায় তুমি..”
“..আমার কল্পনায় তুমি
এতবার এসেছ যে
তুমি তোমার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছ
কল্পনায় তোমাকে এতবার ছুঁয়েছি,
ধারণ করেছি যে,
তুমি তোমার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছ
আমি চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই
তোমার মেঘ, লতানো পাতা, প্রবাহিত অবয়ব
আমার বন্ধ চোখের পৃথিবী
জুড়ে তোমার আলো আর অসংখ্য তুমি
আমার বই, খাতা-কলম, আসবাবপত্র
নখ, ঠোঁট, আঙ্গুল-বুক সবকিছুতেই
শুধু তুমি লেগে আছো!
আমি চোখ বন্ধ করলেই বলে দিতে পারি
কতোটা বর্ষা তোমার চুল
কতোটা পুষ্প তোমার আঙুল
কতোটা গোলাপ তোমার ঠোঁট
কতোটা পদ্ম তোমার পা
কতোটা তুমিময় তোমার তুমি
আমার কল্পনায় ঐ চুল, আঙুল, ঠোঁট, পা
এতবার, আমি এতবার ছুঁয়েছি,
ধারণ করেছি যে –
যখন সত্যিকারের তুমি এসে দাঁড়াও সামনে
অপ্রস্তুত লাগে, অস্বস্তি লাগে;
এই তোমাকে আমি ছুঁয়েছি এতো কম!
এই তোমাকে আমি জেনেছি এতো কম!
বড় বেশি এলোমেলো আর অচেনা লাগে
বিশ্বাস করো –
এতবার,
আমার কল্পনায় তুমি
এতবার এসেছ যে –
তুমি তোমার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছ !..”
“..রং হীন তোমার জল..”
“..রং হীন তোমার জল..”
“..রং হীন তোমার জল
যখন কাঁপায় আমার হেলেঞ্চার শীর্ষাগ্র
তুমি তা কখনও দেখোনি তো !
থরথর তোমার উষ্ণ নিঃশ্বাসে
যখন পালায় আমার লাজুক ডাহুক
ছড়ানো কচুরিপানায় দ্বিধান্বিত পা ফেলে
তুমি তা কখনও শোনোনিতো !
স্পর্শ না করেও ভালবাসতে পারি
তোমার মেঘ, পাহাড়, ঝর্ণা
গহীন অরণ্য, নদী;
শূন্যতায়ও এতোটুকু হয় না বদল
আমার ক্যানভাসে শুভ্রতা
তোমার নীল, সবুজ আর
প্রবাহিত গোলাপি!
তোমার শুধু একটাই কথা -
‘ভালোবাসা বলতে কিছু নেই;
যদি তা না থাকে সারা জীবন ভরে,’
আমি বলি,
‘ভেবে দেখো
শুনছো যে গান তার
ক’টা লাইন আসে ফিরে
চাপা গুনগুনে?’..”
..‘এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়’..
..‘এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়’..
“..আমার এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়
আমি জানি, তুমি জানো –
বৃষ্টি হলেই আমি কবিতা লিখি তোমার জন্য
কিন্তু, শুধু এই কবিতাটি তোমার জন্য নয়।
এই কবিতাটি শুধু তাদের জন্য
যারা বৃষ্টি ভালোবাসে
টুকরো কাগজের মতো যারা
নিজেদের উড়িয়ে দিতে চায়
বৃষ্টি শুরুর লাগামহীন বাতাসে
যারা বৃষ্টির ফোঁটায় খোঁজে প্রিয় মুখ;
জল নিয়ে গালে – যারা হাসে!
অবারিত আকাশ মুঠোতে ধরবে বলে
যারা ছুটে যায় খোলা প্রান্তরে
বারান্দার কার্নিশে অপেক্ষমাণ কাকের দিকে
‘মাটিতে আকাশের স্বাধীনতা’ যারা দিতে পারে ছুঁড়ে!
এই কবিতাটি তাদের জন্য
যাদের দু’হাত গত বৃষ্টিতে
ধরে রাখা অন্য দু’হাতের স্মৃতিতে কাঁপে
এই কবিতাটি তাদের জন্য
যারা ভেজা জানালার এপাশে বসে
কচি বাঁশপাতার মতো
বড়ো বেশি এলোমেলো চোখে কাঁদে
এই কবিতাটি শুধু তাদের জন্য
যারা ব্যাথার কাজল মেখে
দু’হাতে মুখ লুকিয়ে,
বৃষ্টিকে ভালোবেসে – রং হীন জলে
ঝরে যেতে ভালোবাসে!..’’
..‘এলোমেলো-১-৪’..
..‘এলোমেলো-১’..
“..তোর বুকেই ঘুমাব শুধু
আর কোনও কিছু চাইবো না;
সত্যি বলছি, আমাদের বিছানায়
একের অধিক বালিশ রাখবো না!..’’
..‘এলোমেলো-২’..
“..‘আজ শাড়ি পড়েছি’ –
মুঠোফোনে বললি;
কায়া ছেড়ে ছোটে ছায়া
বলি, ‘তুই কোথায় চললি!?’..’’
..‘এলোমেলো-৩’..
“..দশ-বারোটা কবিতার বই কিনেছি
একটিও পড়তে পারছি না;
তোর দুচোখের মত কবিতা
কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না!..’’
..‘এলোমেলো-৪’..
“..জানি এ Cigarette ভালো না মোটেও
পোড়াচ্ছে আমায় ধীরে ধীরে’;
তবুও বলবো, ভালো,
অন্তত ঐ অভিমানিনীর থেকে
পোড়াচ্ছে ঠিকই,
তবু আসছে তো ঠোঁটে ফিরে ফিরে!..’’
..'এলোমেলো-১-৫'..
..'এলোমেলো-১'..
“..ধরতে বলিস তোর দুটি হাত
শক্ত করে ওভাবে;
হাত যে আমার প্রচণ্ড ঘামে
বল, রাখব ধরে কিভাবে?..’’
..'এলোমেলো-২'..
“..ঘর ভেঙ্গে তুই আসতে চাস
ছুটে আমার কাছে;
ভাঙ্গবি না তুই আমার ঘর
এই নিশ্চয়তা কি আছে?..’’
..'এলোমেলো-৩'..
“..অনেক হল, আর কাছে
আসার চেষ্টা করিস না;
ঘুম হারিয়ে ঐ দুচোখে
জল বৃক্ষের বীজ বুনিস না!..’’
..'এলোমেলো-৪'..
“..খসখসে কাগজে কখনও
নাম লিখিনি তোর;
চোখের পাতায় নেই
তোর ঠোঁটের স্পর্শ?
- চাইনা এমন ভোর!..’’
..'এলোমেলো-৫'..
“..যে নামে আমার ইচ্ছে
সে নামেই তোকে ডাকবো;
স্বামী নই, প্রেমিক আমি
যখন ইচ্ছে – ভালবাসবো!..’’
Subscribe to:
Posts (Atom)