January 12, 2014

..‘নষ্ট ছিলাম না, ভ্রষ্ট ছিলাম’..

..‘নষ্ট ছিলাম না, ভ্রষ্ট ছিলাম’..

“..নষ্ট ছিলাম না, ভ্রষ্ট ছিলাম
ভিন্ন ছিলাম, স্বতন্ত্র ছিলাম
অসাধারণ ছিলাম না, অতি সাধারণ ছিলাম
স্বপ্নাবিষ্ট যাত্রী দলে মুখোশহীন আমি শামিল ছিলাম
‘মানুষ’ আমি ভীষণ ‘প্রেমিক’ রৌদ্র-জলে স্তব্ধ ছিলাম!

কাঁঠালচাঁপায় সুবাসিত বুকের গন্ধে মগ্ন ছিলাম
চোখের কৃষ্ণ-গহবরে সমর্পিত নভোচারী ছিলাম
দশ আঙ্গুলের পিয়ানোতে গুঞ্জরিত সুর তুলেছিলাম
কম্পিত ওষ্ঠে স্পর্শাহত দারুণ বাধা ভুলেছিলাম!

অনেক খুঁজে নিষাদ আমি নিখাদ যে ফুল কুড়িয়েছিলাম
রক্তে-মাংসে-মেধায়-বোধে নিবিড় তাকে মিশিয়েছিলাম
বুকের কাছে খুব লুকিয়ে আদ্র যত্নে রেখেছিলাম
শ্রাবণহীন রোদনে তুমুল বর্ষা করে নামিয়েছিলাম!

নষ্ট ছিলাম না, ভ্রষ্ট ছিলাম
ভিন্ন ছিলাম, স্বতন্ত্র ছিলাম
প্রথা ভাঙা নিনাদে প্রথম প্রার্থনা করেছিলাম
অসাধারণ ছিলাম না, অতি সাধারণ ছিলাম
বাহিরে আপাত আহত হলেও ভেতরে আমি নিহত ছিলাম!..”

January 03, 2014

..‘এলোমেলো ১ - ৫’..

..‘এলোমেলো ১ - ৫’..

..‘এলোমেলো-১’..

“..তবু যেন প্রথমবার
যখনি দেখি;
মনে হয় তোকে
দেখছি প্রথমবার!..’’

..‘এলোমেলো-২’..

“..ব্যাংক-ব্যালান্স নেইতো আমার
পৈতৃকসূত্রে নেই জমি;
আশ্রয়হীন আমাকে বুকে
থাকতে দেবে তুমি?..’’

..‘এলোমেলো-৩’..

“..উঠুক দেয়াল, নামুক পর্দা
আমি তোমারই আছি;
খুব দূরে নয়, ভুল সুরে নয়
হৃদয়ের কাছাকাছি!..’’

..‘এলোমেলো-৪’..

“..কি আশ্চর্য!
শ্রবণ অপেক্ষায় সেই স্বরের;
তোমার কণ্ঠ উড়ায় যদিও
প্রাণহীন ছাই-ভস্ম!..’’

..‘এলোমেলো-৫’..

“..কাছেই আছো তবু তোমাকে
পেতে চাই কাছে আরো;
বাহিরে-ভেতরে সমান তালে
বাড়ছে শৈত্যপ্রবাহ!..’’

December 24, 2013

..‘বলেছি অনেক কথা; কবিতা অনেক শুধু ভালোবাসি বলিনি’..

..‘বলেছি অনেক কথা; কবিতা অনেক শুধু ভালোবাসি বলিনি’..

“..যা কিছু সম্পর্কে ছিল অবিশ্বাস – তার কোন কিছুই ধারণ করিনি
তোমাকে বলেছি অনেক কথা; কবিতা অনেক – ‘ভালোবাসি’ বলিনি!

আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি শব্দের আছে রুপ-রস-বর্ণ-গন্ধ
বিশ্বাস করি প্রতিটি শব্দের আছে প্রত্যাশা-অনুভূতি-অর্থ
আমি বিশ্বাস করি ‘ভালোবাসি’- মানে দায়বদ্ধতা, আত্মসমর্পণ
বিশ্বাস করি ‘ভালোবাসি’- মানে তোমাকে দেয়া নিখাদ পরিবর্তন
দু’চোখে স্বপ্ন গেঁথেছি অনেক – জলশূন্য করতে পারিনি
তোমাকে বলেছি অনেক কথা; কবিতা অনেক – ‘ভালোবাসি’ বলিনি!

তোমার দু’চোখ – কাজলে ঢাকা – ছড়ায় যে নীরব সঙ্গীত
আমি সে গানে সুর দেবো বলে খুঁজেছি কথা অনেক
আমাদের এই বাংলায় এখন বিজাতীয় ভাষার রাজত্ব
মাতৃভাষার শুদ্ধতা আমি কোথাও খুঁজে পাইনি
স্বাপ্নিক আমি – ভীষণ অসহায় – ‘ভালোবাসি’ বলিনি!

এলোচুল তোমার – নিটোল আঁধার – ঢেলে দেয় যে স্নিগ্ধ ঘুম
আমি সেই ঘুমের মতো প্রশান্ত বিধান খুঁজেছি অনেক
আমাদের এই বাংলায় এখন উগ্র সাম্প্রদায়িকতার মহামারী
আত্মিক শান্তির স্তোত্র আমি কোথাও খুঁজে পাইনি
তন্দ্রালু আমি – দারুণ নিদ্রাহীন – ‘ভালোবাসি’ বলিনি!

তোমার উষ্ণ বুকের জোড়া শুভ্র ফুল – বিলায় যে আন্তর নিজস্বতা
আমি সেই কামনার মতো স্বকীয় সংস্কৃতি খুঁজেছি অনেক
আমাদের এই বাংলায় এখন দুর্গন্ধযুক্ত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
দূর্বাঘাসের আঁচল আমি কোথাও খুঁজে পাইনি
ক্লান্ত আমি – আমূল শ্রান্ত – ‘ভালোবাসি’ বলিনি!

ঠোঁট তোমার একান্ত উঠান – অথবা নাভিমূলের স্নাত পদ্মপাতা
যারা দিলো বিছানো সবুজ – চাপা গুনগুন – থরোথরো কম্পন
আমি সেই সব বিলানো পিছুডাকের মতো নিবিড় সবুজ খুঁজেছি অনেক
আমাদের এই বাংলায় এখনও আছে ‘স্বেচ্ছাসেবক’দের কালচে আগাছা
মেধায়-মননে সুরেলা সবুজ খুব বেশী খুঁজে পাইনি
প্রেমিক আমি – তুমুল প্রতারিত – ‘ভালোবাসি’ বলিনি!

‘ভালোবাসি’ মানে দায়বদ্ধতা; তোমাকে দিতে পারা – আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন
‘ভালোবাসি’ মানে নিজস্বতা; তোমাকে দিতে পারা – সার্বিক আত্মসমর্পণ

খুঁজে ফিরেছি ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতি-স্বকীয়তা
তোমার মতো অমলতা কোথাও খুঁজে পাইনি
দু’চোখে গেঁথেছি অনেক স্বপ্ন
বলেছি অনেক কথা; কবিতা অনেক
শুধু – ‘ভালোবাসি’ বলিনি!..”

December 03, 2013

..‘এলোমেলো ১ - ৫’..

..‘এলোমেলো ১ - ৫’..

..‘এলোমেলো-১’..

“..তোমার বুকের মাঝে
সেঁউতি জোড়া ফোটে;
সুগন্ধে লীন আমি
তৃষ্ণা বাড়ে ঠোঁটে!..’’

..‘এলোমেলো-২’..

“..হোয়াইট হাউজেই আছো তুমি
নীলাভ পরী, নাকি সাদা?
যাবে কি ছুঁয়ে স্বপ্ন দিয়ে
তৃষ্ণার্ত ঠোঁটে – আধা!..’’

..‘এলোমেলো-৩’..

“..টিপ টিপ জোনাকির মতন
তোমার দু’চোখ চেয়ে রয়;
আমার ভেতর ক্ষরণ হয়
টুপ টাপ জোছনার মতন!..’’

..‘এলোমেলো-৪’..

“..যখনি তোমাকে ভাবি –
রাত্রি কিংবা দিন;
আমার ভেতর বাড়ে
শুধু বাড়ে ডোপামিন!..’’

..‘এলোমেলো-৫’..

“..এভাবেই ঘুমিয়ে থেকো
অভিমানী – ছলনাহীন;
লুকিয়ে আমিও জড়াবো বুকে
নাগরিক জোস্না – স্বপ্নহীন!..’’

November 08, 2013

..‘এলোমেলো ১ - ৫’..

..‘এলোমেলো ১ - ৫’..

..‘এলোমেলো-১’..

“..সূর্যোদয় আমার –
নগ্নদেহে তোমার;
আমার সূর্যাস্ত –
তোমাতেই অবিরত!..’’

..‘এলোমেলো-২’..

“..একই গাঙচিল ডানায় উড়ি
অপূর্ণ তবু সাধ;
এতো কাছাকাছি তবু যেন
কোন অজানার বাঁধ!..’’

..‘এলোমেলো-৩’..

“..বৃষ্টি ধারায় অথবা ঝর্ণায়
যতই আমি ভাসি;
ভেজা আর স্নানের পার্থক্য বুঝতে
তোমার কাছেই আসি!..’’

..‘এলোমেলো-৪’..

“..কিন্তু-এবং-যদি
দু’চোখে ধরা অশ্রুকে তোর
বানায় বিশাল নদী!..’’

..‘এলোমেলো-৫’..

“..স্বাধীনতায় কিংবা অধীনতায়
যখনই শাড়ি পড়বে তুমি;
প্রতিটি সূতায় জড়াবো তোমায়
কায়াহীন ছায়ায় - আমি!..’’

October 21, 2013

..‘তারপর একদিন’..

..‘তারপর একদিন’..

“..তারপর একদিন
হয়তো কোন শীত রাত্রির শেষে
দু’চোখ ক্লান্ত যখন রমণ আবেশে
আঁধার জড়াবে আমায়, ঘুমে
টিপ টিপ জোনাকির মতো শরীর তোমার
তন্দ্রা–ধোওয়া–স্বপনে মৃদু আলো জ্বেলে
আমারে কি পথ দেখাবে?

চোখের পাতার ‘পরে বিবসনা ভ্রম
সাজাবে নিটোল নদী – খোলা চুল জলে
একটি ছোট্ট ঘর পাতা দিয়ে ঘেরা
বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ তোমার আঁচলেতে মোড়া
সকল পাখির স্বরে – স্বর তোমার ডাকবে আমারে
আমারে কি ছুঁয়ে দেবে?

তোমার পায়ের ছাপ যেখানে যেখানে
অনাঘ্রাতা গোলাপগুচ্ছ সেখানে গেঁথে দিয়ে
যখন হবে শেষ শাড়ির সবুজ
তুমি আর প্রকৃতি কামাতুর খুব
আমারে কি বুকে নেবে?

বুঝে কি নেবে আশ্রয় আমার
গ্রহের মতো একই ভ্রমণের শেষে
অথবা পরিযায়ী পাখি দেশ-বিদেশে
যারে ছুঁয়ে যায়নি কো কখনও দর্শন
অদৃষ্ট যার চিরকাল শুধুই ভ্রমণ
আমারে কি বুঝে নেবে?

হয়তো অজস্র মানবীর মতো
তুমিও আমারে ফিরিয়ে দেবে
আকাশে ছড়িয়ে নীল নীল মেঘদল
ব্যাথায় নীলাভ আমারে তুমি
টেনে নেবে না বুকে – হয়তো;

তারপর একদিন
কোন এক শীত রাত্রির শেষে
দু’চোখ ক্লান্ত যখন রমণ আবেশে
বুকে টেনে নেবে প্রকৃতি আমারে - নয়তো!..”

September 23, 2013

..‘যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই তারে’..

..‘যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই তারে’..

“..যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই তারে
নিভাঁজ আকাশের নীল-সাদা মেঘে ছড়ালো যে আমারে;
দেখালো শুভ্র জোড়া সেঁওতি দ্বিধার পাপড়ি খুলে
মাতালো বিভায় সরিয়ে আঁচল আঁধারে সেঁজুতি জ্বেলে।

যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই তারে
নিঃশ্বাসের উষ্ণ প্রস্রবণে স্নাত যে করে আমারে;
যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই তারে
কাপুরুষ আমায় নির্ভয় দিলো যে অনুমোদিত অভ্যন্তরে।

যে দিলো বৃষ্টির নূপুরধ্বনি, জোস্না, অমিতাভ ঘাস
হাতের মুঠোয় বাঁধ-ভাঙা নদী, বুক-পাঁজরে স্থায়ী আবাস
দিলো ষড়ঋতু, দিলো রংধনু, দিলো স্তোত্রগুচ্ছ
স্বরলিপির মতো দ্যার্থহীন দিলো অনুভূতি স্থূল-সূক্ষ্ম
যে দিলো পাহাড়-অরণ্য সবুজ-লোকালয়-মরুভূমি
বৃক্ষের মতো স্থবির আমাকে বানালো পর্যটক বেনামী
শ্রাব্য শ্লোক হলো যে সীমিকা সিঁথির শোণিকা বিলিয়ে
যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই তারে

আমারে রাঙাতে দু’চোখের পাতা
আঁকে যে ব্যাথার কাজলে –
যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই তারে
একা ঘরে একা আয়নায়
যে খুঁজে ফেরে একা আমারে!..”