December 20, 2014

..‘তোমার শরীর অন্ধ আমার বর্ণমালা’..

..‘তোমার শরীর অন্ধ আমার বর্ণমালা’..

“..ওঁরা আমার নাম জানতে চেয়েছিল - বলেছিলাম
যে নামে আমি আমাকে ধারণ করি - সেই নাম
আমি ওঁদের বলেছিলাম; ওঁরা সন্তুষ্ট হয়নি
আমি জানি - ওঁরা আমার নাম জানতে চায়নি
ওঁরা জানতে চেয়েছিল আমার বংশ, গোত্র, ধর্ম
আমাকে ওঁরা জানতে চায়নি, চেয়েছিল জানতে
আমার দেয়ালে কতোটা হয় ওঁদের প্রতিধ্বনি!

ওঁরা আমার বয়স জানতে চেয়েছিল - বলেছিলাম
পৃথিবীর ইতিহাস যত দিনের - ৪,৫০০ মিলিয়ন বছর
আমি ওঁদের বলেছিলাম; ওঁরা সন্তুষ্ট হয়নি
বলেছিলাম - ‘মানুষ তার জ্ঞানের সমবয়সী’
ওঁরা সন্তুষ্ট হয়নি, বলেছিল - বেশীদিন বাঁচবো না আমি;
‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান দীর্ঘজীবী’ - বলেছিলাম
ওঁরা সন্তুষ্ট হয়নি।
ওঁরা যা জানে - তাই জানতে চায়
ওঁরা যা জানে না - তা জানতে চায় না
ওঁরা আমাকে ওঁদের মতো দেখাতে চেয়েছিল
আমি দেখতে চাইনি; তাই
ওঁরা সন্তুষ্ট হয়নি।
ওঁরা আমার হাত টেনে নিয়ে কোথাও রেখে বলেছিল -
এর নাম ‘বিদ্রোহ’ - আমি বলেছিলাম ‘ঠোঁট’
আবার সরিয়ে নিয়ে অন্য কোথাও রেখে বলেছিল -
এর নাম ‘ঔদ্ধত্য’ - আমি বলেছিলাম ‘বুক’
ফের সরিয়ে নিয়ে অন্য কোথাও রেখে বলেছিল -
এর নাম ‘ধ্বংস’ - আমি বলেছিলাম ‘জন্ম’
ওঁরা আমাকে জন্মান্ধ বলেছিল
বলেছিল - আমি সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে পারি না
ওঁরা জানে না -
তোমার শরীর অন্ধ আমার বর্ণমালা
এখানে কোন মিথ্যা নেই
- এই সত্য ওঁরা জানে না!..’’

..'স্মৃতিচারণ বলতে কিছু নেই'..

..'স্মৃতিচারণ বলতে কিছু নেই'..

“..স্মৃতিচারণ বলতে কিছু নেই,
স্মৃতিচারণ বলতে কিছু নেই কবিদের
স্মৃতিতেই তো তাঁদের বসবাস
তপ্ত রোদে-জোস্নালো রাতে-কুয়াশাঘেরা সকালে-ঝিঁ ঝিঁ ময় গোধূলিতে
স্মৃতিময় তাঁদের চারপাশ
স্মৃতির শেকলে বাঁধা পড়া মানুষ, স্মৃতির আবছা নীলাভ ফানুস
হাতছানি দিয়ে ডাকে; স্মৃতির হাওয়ায় দোলে না চুল কার?
কে ফেলে না আঁখিজল, স্মৃতিপাঠে?

কবি স্মৃতিকাতর প্রতি পথে-প্রতি প্রহরে-প্রতি শব্দে-প্রতি ছন্দে
কবির পথচলায় সঙ্গী কেবল স্মৃতি; তাঁর না পাওয়ায়, তাঁর হতাশায়
স্মৃতিময় কবিতাই সুখ প্রতীতি!
কবি জলের শীর্ষাগ্রে দেখে প্রিয়র হাসি, লতার অবগুণ্ঠনে লজ্জা
রাজপথের বাঁকে দেখে রুঢ়তা, গাছতলে ফুলশয্যা
কবি তাঁর হাতের মুঠোয় ধরে অবারিত স্বপ্ন, চোখের তারায় ভাবালুতা
অগোছালো শব্দে রাখে নিজেকে লুকিয়ে, হৃদস্পন্দনে ব্যাকুলতা
স্মৃতিচারণেই তাঁর পূর্ণতা হয়; যার প্রকাশ ঘটে তাঁর কাব্যে
কখনো সে উদ্ধত, কখনো সে কামুক - স্মৃতির ডানা ঝাপটানো শব্দে!
সকল কবিই মানুষ যদিও সকল মানুষ নয় কবি
মানুষ তখনি কবি হয় যখন সাদা-কালো স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে
নিরঙ শব্দের তুলি দিয়ে আঁকে সে রঙিন ছবি!
কবির ভুবনে স্মৃতিচারণ তাই আকাশের মতো
যার নিচে আবাস সকল অনুভূতির
স্মৃতির মেঘজলেই তাঁর নিরন্তর স্নান,
স্মৃতির রৌদ্রালোকেই সমাধি –
কবির আত্মাহুতির!..”

..‘আমি এড়িয়ে যেতে পারি প্রায় সব’..

..‘আমি এড়িয়ে যেতে পারি প্রায় সব’..

“..আমি বিশ্বাস করি মানব এবং মানবী সৃষ্টির আগে
সৃষ্টিকর্তার পাশে ছিল একটি প্রেমি হৃদয়,
আমি বিশ্বাস করি একদিন ধ্বংস হবে সব
শুধু ধ্বংসস্তূপের উপর - থেকে যাবে প্রেম; অনন্ত-অক্ষয়!

আমার সম্মুখ হতে সরিয়ে নাও তোমার চুল -
অগণিত, অযাচিত অমানিশার গাঢ় প্রতিশ্রুতি
এখানে কোন প্রেম নেই - আছে চিরায়ত শৃঙ্খল
হয়তো শুধু দেখবো; কিন্তু এড়িয়ে যাবো আমি ঠিকই
সরিয়ে নাও তোমার স্নিগ্ধ জোড়া করতল -
মেহেদী রঙে ঢাকা আধ্যাত্মিক প্রশান্তির দূর্বার আহবান
এখানে প্রেম নেই - আছে স্বার্থের প্রস্ফুটিত শতদল
হয়তো শুধু দেখবো; কিন্তু এড়িয়ে যাবে ঠিকই আমার গর্ব নৈব্যক্তিক প্রাণ
আমি চাইনা সম্মুখে তোমার পেলব উরু - পুঁজিবাদ
চাইনা তোমার উল্লম্ফিত বুক - সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফাঁদ
সরিয়ে নাও ক্রমহ্রাসমান কোমর - প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কল্যাণ
চাইনা তোমার অপসৃয় নিতম্ব - অস্তিত্ব নাশের গিরিখাদ
এগুলোতে কোন প্রেম নেই; আছে শুধু বিলুপ্তি
হয়তো শুধু দেখবো; কিন্তু এড়িয়ে যাবো আমি ঠিকই
আমার যে দু’চোখ বধির - পিপাসার্ত
আগ্রহী খুব সবকিছু গেঁথে নিতো
এড়িয়ে যায় আজকাল তন্দ্রালু-আনমনা
অন্যকিছু হলেও হতে পারে আমার
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি, অবগুণ্ঠিত শান্তি আর
লালায়িত পুঁজিবাদ - কখনোই আমার না!
আমার কেন যেন শুধু চোখ ভরে যায় জলে
বাহিরে যখন দারুণ বসন্ত; ভেতরে ভেতরে
আমি পুড়ে যাই দাবানলে!
আজকাল আমি এড়িয়ে যেতে পারি প্রায় সব
প্রিয়জন হারানোর বেদনায় অভিনীত বহুল চর্চিত - জলে ভেজা চোখ
অগোচরে উঁকি দেয়া জাগরণের স্বার্থসিদ্ধি - বুক বন্ধনীর ফিতে
শুভ্র উরুর গুটানো কাপড়ে লুপ্ত - দেশাত্মবোধ আমার
এগুলোতে প্রেম নেই; তাই আলোড়িত হই না
আজকাল আমি এড়িয়ে যেতে পারি প্রায় সব
শুধু সাদা কাগজ আর প্রেমে থরোথরো ঠোঁট
এড়াতে পারি না!..’’

..'তোমার ঘরের বন্ধ দরোজা খুলে গিয়েছিল দমকা বাতাসে'..

..'তোমার ঘরের বন্ধ দরোজা খুলে গিয়েছিল দমকা বাতাসে'..

“..তোমার ঘরের বন্ধ দরোজা খুলে গিয়েছিল দমকা বাতাসে
কুশনের নিচে থাকা দৈনিক পত্রিকা উড়ছিল ছোট্ট রুমের আকাশে
ফুলদানি কাৎ হয়ে পড়ায় গলে গলে পড়ছিল শিরোনামগুচ্ছ -
‘কথা রাখলেন না অর্থমন্ত্রী’, ‘বাঁচল ব্রাজিল, বাঁচল বিশ্বকাপও’
নিরন্তর উড়ছিল জানালার রঙিন পর্দা – বারান্দার খাঁচায় জোড়া মুনিয়া
কেঁপে উঠেছিল বইয়ের তাকে থাকা ‘শ্রেষ্ঠ জীবনানন্দ’, ‘নির্বাচিত বাংলা কবিতা’
কেঁপে উঠেছিল বেশ ক’টি জোড়া চোখ, তোমার শুভ্র পায়ের তলা
হৃদপিণ্ডের মতো নষ্ট ডোরবেলটিকে তুমি বারবার বাজতে শুনছিলে
তুমি বিনা অনুমতিতে তোমার ঘরে অনেকের আগমন পেয়েছিলে
তোমার চঞ্চল ছোট ভাইটি শান্ত হয়ে
তোমার ঘর্মাক্ত মা ভাতের চামচ নিয়ে
তোমার ব্যস্ত বাবা পাঞ্জাবির বোতাম না লাগিয়ে
কাজের মেয়েটি কাজ থামিয়ে পলকহীন চেয়েছিল!

চোরাবালি তোমার দু’ঠোঁট কাঁপছিল থরোথরো;
ভীষণ আকাঙ্ক্ষিত তোমার দু’হাত কাঁপছিল জড়োসড়ো!
রংতুলি–মেঘ–কবিতার বই–মুঠোফোন ফেলে রেখে
তোমার দু’হাত এক টুকরো কাগজ ধরে রেখেছিল;
মিথ্যা–বার্ধক্য–অভিনয়–শ্লোগান সরিয়ে রেখে
তোমার দু’চোখ আজ বিকেলে আসা একটি চিঠি পড়ছিল।
নিয়ম ভাঙ্গা কার্যকারণে বিশ্বাস হচ্ছিলোনা তোমার
হাতে লিখা এক বাক্যের চিঠি তুমি পড়ছিলে বারবার,
তোমার কৃষ্ণগহবর দু’চোখ পড়ছিল –
‘ভালোবাসতে চাই তোমাকে, আরেকবার’!..”

..'BECKONING JADE DREAMS'..

..'BECKONING JADE DREAMS'..

"..Ah! How sweet the days were!
We waited for passionately each other,
Like starved birds in a nest being eager.
After the day’s turn to the sweet night;
Holding beloved desires with plight
Ah! How sweet the days were!

When the gentle breeze passed me whispering
Touched my glowed cheeks with dew-blistering
I fancied those as were from thine presence
Walked with thee grabbing thy hands
We together went for roving
Through the leaves-fallen forests,
Over the icy-blue dreamy oceans
Thrashing the flowers on a vase floating
We together went a roving.
Ah! How aching sweet the days were!
With a lot words-made necklace
Keeping the earnest love in heart bottomless
I whispered & found thee sleeping
At the corner of the bed like a child
Having waited long & thought of
The beloved’s being so unkind
I made futile efforts to keep thou sleeping
Knew not how thou woke up & with eyes tiring
And with thine loving roving eyes we went a roving!.."

“..ফিরে দেখা স্বপ্ন সবুজাভ..”

“..ফিরে দেখা স্বপ্ন সবুজাভ..”

“..অতলান্তিক স্বাপ্নিক ছিল দিনগুলো
আমরা দু’জন আবেগি দু’জন অপেক্ষারত
যেন ক্ষুধার্ত পাখি আগ্রহী তার নীড়ে
যখন দিনের পরিসমাপ্তি শুভ রাত্রির তীরে
আঁজলায় নিয়ে কামনা আর হতাশাগুলো
কি অতলান্তিক স্বাপ্নিক ছিল দিনগুলো!
স্নিগ্ধ বাতাস পাশ কেটে যেত যখন ফিসফিস করে
ছুঁয়ে যেত দীপ্ত কপোল আর স্বেদ কণারে
সে, শুধু সে ছিলো বলে
ভ্রমণ বিলাসী হতাম ঐ দু’টি হাত ধরে
আমরা দু’জন পথিক হতাম পথের পিঠ মাড়িয়ে
হেঁটে বেড়াতাম পাতাঝরা বনের কুমারী বুকে
কল্পনার নীলাভ শীতল সমুদ্রের অধরে
ভাসতে থাকা ফুলের শতদল বসন্তের আধারে
কি অতলান্তিক স্বাপ্নিক দিন ঘিরে ছিল দু’জনেরে!
কি সুখের মতো ব্যাথাদায়ক ছিল সেসব দিনগুলো!
শব্দ দিয়ে গাঁথা মালা গলায় পড়াতে
অনিঃশেষ ভালোবাসা হৃদগভীরে নিয়ে
আমি ফিসফিস করতাম এবং সে ঘুমন্ত
বিছানার একপাশে ছোট্ট শিশুর মতো
অপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ এই ভেবে ভেবে -
এতোটা নিষ্ঠুর, ভালবেসেছিলো সে যাকে!
তাঁর ঘুম না ভাঙানোর ব্যার্থ প্রয়াসের মতো
আমিও ব্যার্থ হতাম
কিভাবে যেন সে হঠাৎ সজাগ
নিয়ে ক্লান্ত দু’টি চোখ
আর আমিও হারাতাম
অনায়াসে ডুবে যেতাম;
ছুটে বেড়ানো তাঁর দৃষ্টির সাথে সাথে
ছুটে বেড়াতাম ছায়াহীন একসাথে!..”

..‘তাঁর পরিচয় চাই’..

..‘তাঁর পরিচয় চাই’..

“..তখন আমার সাহস ছিল
চিৎকার করে বলার – চিনি, চিনি, চিনি
আমি তাঁকে চিনি!
আমার কাছে তাঁর পরিচয় অজর-অক্ষয়
প্রিয় মৌমাছি, প্রিয় রাণী
তোমার মধুগৃহ সাজাই আমার অসংখ্য আমি!
সবুজের সাথে যেমন করে অন্ধকার বাঁচে
গাঢ়তর দিনে প্রিয়তম সূর্যের সর্বোচ্চ উড্ডয়নে
সে আর তাঁর পরিচয় এমন অবাক
গ্রহে গ্রহে যেমন প্রাণের ভেদ
সুতোয় জড়ানো সূত্র, আমার প্রয়োজনে।
চেয়েছি বলে গাঢ়রঙে রাঙা ঠোঁট
চাইনি বলে সমস্ত ছেড়েই আবির্ভাব যার
একবার ফুলে-ফলে সাজানো
আরেকবার শুধুই সুন্দর – পাতাবাহার!
আমাদের অন্তর্গত পাখিদের অনবরত কিচিরমিচির
প্রাত্যহিকতায় ক্লান্ত মৌখিক পেশী
এইখানে আমাদের বিশ্রাম, নৈশব্দের নাম দেই শিশির!
সরল বলে কিছু নেই; যেমন নেই সহজ -
কাকে বলে সন্ধ্যা, কাকে বলে রাত্রি?
দৃষ্টিগ্রাহ্য তারা পাই খাঁজকাটা
হৃদয়ের নিচে এক টলটলে হ্রদ!
তাতে এক মাঝি হাঁক দেয়,
অহর্নিশ এপার-ওপার করি যাত্রী।
সন্ধ্যা ঘরে ফেরে জলে ধুয়ে পা
সব কটা খিল এঁটে রাত্রি ঘুমায়
উত্থান অতঃপর দ্রুততায় বহুমাত্রিক পতন
বাঘ চোখ গায়ে এঁকে কিশোরী জোসনায়।
মৃদু কড়া নাড়া থেকে বজ্র নিনাদ
জেগে উঠে বসে নিষ্ঠুর ঘুমাই
আমার পরিচয় জানে বাতাস -
সে কে? তাঁর পরিচয় চাই!
কখনও চেতনা, বুদ্ধি, মন ও মুখোশের দেবী
কখনও মধুগৃহে আর্ত রাণী মৌমাছি
ভেজা আর স্নানের পার্থক্য জানা হলে -
পরিচয় ভুলে যাই - চেনা হলেই বাঁচি।
সুবর্ণা সে বসন্ত আমার, আমার যৌবন
তাকে বলি রাত্রির শিশিরে সাজানো সুন্দর সবুজ
সম্মুখে হাঁটুগেড়ে অনুনয় করি,
আধখানা দিয়েছে পরিচয়, আধখানার নাই খোঁজ।
বাজপাখি সমাজ মাটিতে চোখ
কোথাও নেই একজোড়া ছেঁড়া স্যান্ডেল
তাঁর নগ্ন পায়ে শুধু শোক!..’’