December 20, 2014

..‘যদি পারতাম – হঠাৎ বৃষ্টির সেদিনের সন্ধ্যায় মুছে দিতাম’..

..‘যদি পারতাম – হঠাৎ বৃষ্টির সেদিনের সন্ধ্যায় মুছে দিতাম’..

“..কদমের বর্ষা চোখে টলমল আহত জিজ্ঞাসা তোমার
মেহেদির রঙে সুচারু আহবান নকশা দু’হাতে তোমার
অসহনীয় নিস্তব্ধতার মেঘদল যেন খোলা চুলের গাঙে
বেদনার নীল ছড়ায় নীলে আরও নীলে নীল ভাঙে
অসহ্য লাগে এক গান থেকে আরেক গানের মধ্যকার সময়
অশেষ লাগে একা ঘরে একাকীত্বের সাথে একান্ত প্রণয়
অথবা নির্ঝঞ্ঝাট ব্যস্ততাহীন সময়ের বেঁচে যাওয়া
অথবা পুরনো প্রিয় কবিতার পাতা রাস্তায় খুঁজে পাওয়া
যদি পারতাম – দ্বিধাহীন – স্বতঃস্ফূর্ত ছুটে যেতাম
বকুল কথার শেষদিন – মাধবীলতার বিছানায়
নারিকেল শাঁস ছোঁওয়া ছায়া কাঁপা স্নায়বিক দুপুরে
যদি পারতাম – শর্তহীন – ফিরে যেতে পারতাম
চিরকাল সবুজের মতোন মগ্নতার জলে মাথা রেখে
ভেজা রোদে খুব দক্ষিণে পরগাছা পংক্তিমালা রেখে
ঝম ঝম করে ফোঁটায় ফোঁটায় বুকের অতল গভীরে
আমি সারারাত গল্প হতে হতে ঘাস হতাম
শীর্ষাগ্র থেকে মুক্তোর মতো শিশির ঝরিয়ে ঘাস হতাম
যদি পারতাম – চোখ বন্ধ করে ঘাসের মতো গন্ধ নিতাম
সবুজ ঘাসের মতো আমার উপর ঝরে পড়তো মৌতান
দুলে দুলে ঝরে ঝরে আমাকে ঢেকে দিতো ছাতিমের ফুল
যদি পারতাম – হঠাৎ বৃষ্টির সেদিনের সন্ধ্যায় মুছে দিতাম
মুছে দিতাম অধরে তোমার ওষ্ঠ রেখে প্রথম অকাব্যিক ভুল!..”

..‘তোমাকে’..

..‘তোমাকে’..

“..তুমি আমার প্রিয় রহস্য, গোলকধাঁধা!
সবাক চিন্তা-ভাবনাগুলো স্তব্ধ করে দেয়া
অবাক অদ্ভুত আলোকছটা।
কখনো মা, কখনো বোন, কখনোবা
প্রিয়তমার মতো আশ্চর্য উপস্থিতি তোমার।
শ্রান্ত শরীর আঁচলে নিয়ে, মিষ্টি বকুনির চোখ রাঙিয়ে,
সব ভুলিয়ে উষ্ণ আলিঙ্গনে বেঁধে – তুমি আমার কাছে বৈচিত্র্যপূর্ণ,
তুমি আমার অলিখিত প্রেম, তুমি আমার প্রকাশিত আকাঙ্ক্ষা,
তুমি আমার – নারী!

তোমার অনামিকায় অনামিকা রেখে
আমি দেখেছি সৃষ্টির শুরু – কামনার প্লাবন
– স্বপ্নতারাদের ছুটে চলা।
তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেয়েছে অঞ্জলি আমার;
আজ অবধি তোমার দেয়া অজস্র অনুভূতি
আমার কাছে সমান প্রিয়,
অনিমেখ মনোযোগের কৃষ্ণগহবর।
তোমার মেলে ধরা প্রান্তরে সরব উপস্থিতি
এবং অবগুণ্ঠিত বন্দরে নীরবে দিয়েছি প্রাচুর্য অমূল্য
– আমার একাকীত্ব!
এতোটা বছর কেটে গেলেও
তুমি আমার কাছে যৌবনা অনন্ত;
হঠাৎ বজ্রপাতে কেঁপে উঠা কাজল চোখের মতো –
যার আয়নায় প্রতিনিয়ত খুঁজে ফিরি প্রতিচ্ছবি আমার,
যার স্পন্দিত হৃদকম্পনে প্রতিধ্বনিত করতে চাই নাম আমার –
নিটোল, নিখাদ!
একসাথে চলার অদ্বিতীয় পথে
আমাদের দু’জোড়া পা অবিরাম গেঁথে যাক
অনুসরণীয় পদছাপ!..”

..‘কিছু কিছু মানুষ আছে’..

..‘কিছু কিছু মানুষ আছে’..

“..কিছু কিছু স্পর্শ আছে -
মহাকালকে ধরে রাখা ক্ষণকালের ক্ষীণ ডায়ালে
চোরাবালির মতো ঘর-মন-জানালা নিয়ে
বুদ্বুদে ফোটায় জল কন্যা-পুরাণ কন্যা
অবশেষে নিটোল-অমল নারী এবং ঘরকন্না
শরীরঘাসে হাসনাহেনা কিংবা গুচ্ছ গুচ্ছ বকুল
পাখায় নিয়ে বর্ণ হাজার প্রজাপতি
হারিয়ে আধেক হঠাৎ সবাক ভাষা হারানো রংধনুভুল
অহোরাত্র কাটিয়ে দেয়া স্বপ্নলতায় পেঁচানো সুর
গুনগুনিয়ে বাজতে থাকা-আছড়ে পড়া
কেঁপে উঠা অজানিত-অযাচিত মনের নীলে খুব সুদূর
পায়ের ছাপে-জলের ছলে-কামে-ঘামে-পাপড়িদলে
কিছু কিছু গন্ধ আছে -
মাতাল করা শিশির যেন গায়ে-দেয়ালে
পত্র-পাতায়-ছোট্ট কিছু বিশাল ভুলে
ছুটতে থাকা অবাক সকাল পিছলে পড়া কলসি থেকে
মেঘদল আর গাঙচিল চোখ রুদ্ধ থেকে অবরুদ্ধ
হাতের মুঠোয় জোস্না ভরে বেগুনি আলোয়
কম্পিত যে ছায়া শরীর তার কায়া ঘেঁষে
দাঁড়িয়ে থাকা আপন বাতাস ভাসিয়েছে যেই ঝিম চাদর
তার আঁচল খুলে বাঁধন ভুলে উড়িয়ে দিয়ে সব ফানুস
খুঁজে বেড়ানো সেই মানুষ; যার দু’ঠোঁটে কিংবা ওষ্ঠে কিংবা অধরে
কবিতা হবে অঙ্কিত, অথবা হবে মুদ্রিত, অথবা হবে ঈপ্সিত
কিছু কিছু মানুষ আছে -
আঙুল খোঁজে না, স্তন খোঁজে না
বুকের ভাঁজে-কোমর খাঁজে
নিখাদ ঢেউয়ের বাঁক খোঁজে না
আমৃত্যু – অতন্দ্র;
শরীরে তারা দু’ঠোঁট খোঁজে
খোঁজে অশ্রুত কবিতা যতো!..”

..‘যখন ঘুমিয়ে পড়ে তোমার কাজল দু’চোখ’..

..‘যখন ঘুমিয়ে পড়ে তোমার কাজল দু’চোখ’..

“..যখন ঘুমিয়ে পড়ে তোমার কাজল দু’চোখ
আমি হাতড়ে ফিরি, আঁকড়ে ধরি
ভাঙা আয়নার কাঁচ – মেঘদলের খুলে যাওয়া সাজ
পাখিদের পরিত্যক্ত নীড় – টলমল সবুজ দীঘি সুনিবিড়
জন্মান্ধের মতো, হাঁটতে শেখা মানবশিশুর মতো
শুচিবায়ুগ্রস্ত গৃহিণীর মতো, খুঁতখুঁতে শিল্পীর মতো
আমি হাতড়ে ফিরি, আঁকড়ে ধরি
বর্ণিল-উজ্জ্বল-চোখ ধাঁধানো-প্রশংসিত;
আমার অনুভূতিরা গুমরে কাঁদে
সৌন্দর্য আজ নিহত প্রতিক্ষণে, প্রতিপদে
ধার করা আলোর ঝলকানি ধারণ করবে না বলে
ভেঙে পড়ে যে আয়নার কাঁচ
প্রবল প্রবঞ্চিত উপমায় বিবস্ত্র মেঘদল
স্বেচ্ছা নির্বাসিত দারুণ হতাশাগ্রস্ত চড়ুইয়ের সংসার
অমিতাভ শান্ততা বিলিয়ে নিপাট উজাড় দীঘির বুদ্বুদ
কারও কাছে আজ সৌন্দর্য নেই!

সলজ্জ সাধ ছিল আজন্ম
গুচ্ছ গুচ্ছ কোমল স্নিগ্ধতায় চোখ রাখবো
ছায়াঘেরা অরণ্যে যেভাবে মুখ রাখে বাতাস;
কাঁপা কাঁপা মাদকপূর্ণ সুরে শ্রবণ ভেজাবো
বিস্মৃত পিছুডাকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পথিক!
শুধুই হাতড়ে ফিরি
আজ কোথাও নেই সৌন্দর্য
নিজেকে খুঁজে পাই শব শোভাযাত্রায়
কোথায় মেলে ধরবো তৃষ্ণার্ত দু’চোখ?
কোন সৌন্দর্যের ঠোঁটে রাখবো দু’ঠোঁট?
যদি তুমিও ঘুমিয়ে পড়ো
বলো, কার ঠোঁটে রাখবো আমার দু’ঠোঁট?..”

..‘আমার চোখের ফ্রেমে’..

..‘আমার চোখের ফ্রেমে’..

“..আমারও দু’চোখ ছিল, গাঙচিল দৃষ্টি ছিল আমারও সুতীক্ষ্ণ
জল দেখতাম জলের মতোন, জোস্নায় দেখতাম চাঁদের দহন
রোদ-বৃষ্টি-মেঘ-নীলাকাশ-ভয় জাগানো রাত দেখতাম যখন তখন
এভাবে নয়, ঠিক এভাবে নয়; আমি দেখতে চেয়েছিলাম দেখাবার মতোন!

প্রাপ্তির বর্ণছটা যখন শতদলে নিজেদের মেলে ধরে প্রজাপতি মিছিলে
আমি তাদের দেখতে পাই মুগ্ধ বাতাসের মতো
আমি তাদের গেঁথে নিতে চাই দু’চোখে
যেভাবে সবুজ-শান্ত দীঘির জল ধরে রাখে মাছেদের কাঁপন!
যেভাবে এলোকেশী হাওয়া ছুঁয়ে দেয়, নুইয়ে দেয় সোনালী ধানক্ষেত
উৎসবে-পার্বণে আশীর্বাদ বিলানো অগ্রজের মতো
অথবা বৃষ্টিস্নাত রাস্তায় হুডতোলা রিকশায় উদ্বেলিত যুগল কদমফুল
কিংবা সীমাবদ্ধতার আকাশ ফুঁড়ে প্রত্যয়ী একরোখা চুলের
সুনীল মেঘদল হয়ে যাওয়া
অথবা প্রশান্তির মতো অজস্র নক্ষত্রদের ফুটে উঠা
দরিদ্রতমর ধোঁওয়া উড়া ভাতের থালে
এবং শ্লোগানে মুখর উচ্চকিত কণ্ঠ, মুঠোবদ্ধ অনমনীয় হাত
নিকষ কালো ভয়, অনিশ্চিত আগামীকাল;
প্রলাপ বকা একঘেয়ে কম্পিত জ্বরের রাত
আর কিছু অনুভূতি ঈপ্সিত, কিছু মুখছবি অঙ্কিত!
আমি তাদের দেখতে পাই মুগ্ধ বাতাসের মতো
আমি তাদের দেখাতে চাই সূর্যালোকের মতো
আমি চাইনা তারা বাঁধা পড়ে থাকুক দৃশ্যাবলী নামে
আমি চাই দেখুক সবাই,
দেখুক সবাই মুহূর্তের মধ্যে ধরা মহাকাল –
আমার চোখের ফ্রেমে!..”

..‘এখন আমার সময় হয়েছে নতুন করে জন্ম নেবার’..

..‘এখন আমার সময় হয়েছে নতুন করে জন্ম নেবার’..

“..বন্ধন ছিঁড়েই প্রথম জন্ম হয়েছিল আমার
মনে নেই তাই তৎকালীন চারপাশ
ওখানে কি রোদ-বৃষ্টি-মেঘ-জোছনা ছিল?
স্পর্শ ছিল? চুম্বন ছিল? উষ্ণতা-আলিঙ্গন ছিল?
মনে নেই, আমার কিছুই মনে নেই!
আমার তখনও জন্ম হয়নি;
আমি তখনও বন্ধনে ছিলাম।

তারপর এলো এলোকেশী নিয়ে পরিচিত সুঘ্রাণ
নরম বুকে মুঠোভরা ঘুম, কপালে সুরক্ষার কাজল টিপ
অর্থহীন শব্দগুচ্ছ – আঞ্চলিক সুরাশ্রয়ী গান
শ্যামলা পায়ের দোলনা - সস্তা শাড়ির বিছানা
দমবন্ধ আলিঙ্গন আবেগি, ডাগর চোখ চাতকী
আমি আটকে যাচ্ছিলাম বাঁধনে – প্রেমিকা প্রথমার
আমাকে আকস্মিক মুক্তি দিল আগরবাতির ধোঁয়া
কিছু বুঝে নেবার আগেই বন্ধন হারালাম
অতঃপর আবদ্ধ হলাম তার চিরায়ত সন্ধানে!
এলো অজস্র কল্লোল, জানালা আড়ে অনুসৃত চোখ
মমতা মাখানো টিফিন বক্স, সুদর্শন পরামর্শ
ঝড়ের মতো উড়ে বেড়াতে লাগলো ঠোঁট-আঙুল
ঝড়ের মতো উড়ে বেড়াতে লাগলো ঠোঁটে-আঙুলে
আমি ভেসে বেড়ালাম – নামে, প্রেমে, ঘামে!
তারপর বর্ষপঞ্জিকার পাতা উড়ে উড়ে
নিয়ে যাচ্ছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমার বছর বছর
আত্যন্তিক কেড়ে নিচ্ছে চোখের কাজল
চুলের প্লাবন, ঠোঁটের কাঁপন, রুদ্ধশ্বাস বুকের
আমি বকুলপাপড়ি জড়িয়ে রাখি বুক পকেটে গন্ধ নিয়ে
হাসনাহেনার শিশির জমাই ছড়ানো কথায় চোখের কোণে
কাঁঠালচাঁপা মুঠোতে রেখে ঘড়ির কাঁটায় কৃষ্ণচূড়া
খুব একাকি বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখি স্বর্ণলতা
ঝাঁকড়া চুল-বেতফল-গাঙচিল-মেঘদল
আলিঙ্গনে জড়ায় তবু বাঁধতে পারে না
প্রতিশ্রুত-প্রতীক্ষিত রাখে তবু বাঁধতে পারে না
আমি বাঁধা পড়ি নিরন্তর, আপাদমস্তক
দ্বিতীয়া-তৃতীয়া-চতুর্থী-পঞ্চমী-গণনাতে
আমার বোধ-মনন-স্বপ্ন ঘুরতে থাকে নাচের মুদ্রায়
আমি বাঁধা পড়ে গেছি তোমাতে;
রুপ-রস-বর্ণ-গন্ধ ভুলে
আমি বাঁধা পড়ে আছি তোমাতে!
এখন আমার সময় হয়েছে নতুন করে জন্ম নেবার
প্রথম জন্ম – নাড়ি ছিঁড়ে
দ্বিতীয় জন্ম – নারীকে ছেড়ে
এখন আমার সময় হয়েছে নতুন করে জন্ম নেবার!..”

December 19, 2014

..'আজকের বিজয় দিবস'..

..'আজকের বিজয় দিবস'..

“..আমার দু'হাতে আজ ফুল থাকার কথা ছিল
আমার দু'পা আজ নগ্ন থাকার কথা ছিল
আমার দু'চোখে আজ স্বপ্ন থাকার কথা ছিল
আমার চুলগুলোর আজ মেঘ ছোঁবার কথা ছিল
আমার কণ্ঠে আজ গর্ব থাকার কথা ছিল

যদিও
শেকলপরা দু'হাতে বার বার মুছে যাচ্ছি
জমাট রক্তের মতো জুতোজোড়ার লাল রং
দু'চোখের চাপা অশ্রুতে; মাথা নিচু করে
কণ্ঠনালীতে শক্ত হয়ে বসে থাকা দু'হাত
উপেক্ষা করে ক্লান্ত ফুসফুস – মৃতপ্রায়, অবশ
অবশেষে ধারণ করে আছে হৃদপিণ্ড
ভীত, বড়ো একঘরে আজকের বিজয় দিবস!..’’